কচ্ছপ-রোবট শিশুদের শেখাচ্ছে রোবট নির্যাতন ভালো কাজ নয়

রোবট-কচ্ছপ শেলি। ছবিঃ ন্যাভার ল্যাবস

শিশুরা সবকিছু স্পর্শ করতে পছন্দ করে। আবার কোনকিছু ভাংতেও তাদের কোন সময় লাগেনা। ভেঙ্গে ফেলা জিনিসটি যদি খেলনা হয় তবে ঠিক আছে, কিন্তু যদি সেটা রোবট হয় তাহলে সমস্যা।

শিকাগোয় অনুষ্ঠিত এসিএম আইট্রিপলই হিউম্যান রোবট ইন্টারঅ্যাকশন ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে শেলি নামের এক রোবটকে দেখানো হয়েছে যেটি শিশুদের এই আচরণ পরিবর্তনে সাহায্য করবে। দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাভার ল্যাবস, পাবলিক রিসার্চ ইউনিভার্সিটি কাইস্ট ও সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা কচ্ছপ-আকৃতির রোবটটি তৈরি করেছেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল রোবটটির প্রতি আগ্রাসী মনোভাব কমানো যখন কেউ রোবটটির সাথে ইন্টারঅ্যাক্ট করবে।

শেলিকে সাধারণভাবে মজার একটি রোবট মনে হবে ঠিকই কিন্তু কেউ বাড়ি দিলে সে তার মাথা ভেতরে ঢুকিয়ে ফেলে। এরপর নিরাপদ মনে হবার পর আবার মাথা বের করে রোবটটি। পাঁচ থেকে সাতটি শিশু (যাদের বয়স ১৩ বছরের কম) যাতে একসাথে খেলতে পারে সেভাবেই তৈরি করা হয়েছে কচ্ছপ-রোবটটিকে। এর উপরের শেলে রয়েছে এলইডি লাইট ও ভাইব্রেশন সেন্সর যা কারো স্পর্শ বুঝতে পারে। এর মাথা ও চার পা শেলের ভেতরে ঢুকিয়ে রাখতে পারে রোবটটি। খুশি, রাগ, ভয় ও গোমড়া-মুখ করে থাকার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে শেলিকে। যখন শেলিকে বাড়ি মারা অথবা উপরে উঠিয়ে ফেলা হয় তখন রোবটটির ভয় প্রকাশিত হয়। এরপর ১৪ সেকেন্ডের জন্য মাথাটি শেলের ভেতরে নিয়ে যায় শেলি।

শেলির সাথে খেলছে শিশুরা
শেলির সাথে খেলছে শিশুরা। ছবিঃ ন্যাভার ল্যাবস

গবেষণার ফল থেকে দেখা যায় শিশুরা এভাবে তাদের আচরণে বড় রকমের পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু সেটা শুধু ১৪ সেকেন্ডের জন্যই। শেলিকে যখন ৭ সেকেন্ডের জন্য মাথা লুকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হয় তখন শিশুরা আরো অত্যাচার করতে থাকে। আবার যখন ২৮ সেকেন্ডের জন্য মাথা লুকানোর ব্যবস্থা করা হয় তখন শিশুরা বিরক্ত হয়ে উঠে যায়।

সোর্সঃ  আইট্রিপলই স্পেক্ট্রামইউটিউব



আপনার মন্তব্য

মন্তব্য করার পূর্বে মনে রাখুন এডিটোরিয়াল টিম সাইটে কমেন্ট মডারেশন করছে। কোন ধরনের মন্তব্য করা যাবেনা তা জানতে মন্তব্যের নীতিমালা দেখুন। আপনার ইমেইল অ্যাড্রেস প্রকাশ করা হবেনা।