মঙ্গলগ্রহের জন্য নাসার পরবর্তী রোভারঃ মার্স ২০২০

মার্স ২০২০ এর আর্টিস্ট কনসেপ্ট। Courtesy NASA/JPL-Caltech

মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার জন্য এবার অপেক্ষা করছে নাসার নতুন রোভার মার্স টুয়েন্টি টুয়েন্টি (মার্স ২০২০)। নাম দেখেই কিছুটা আন্দাজ করা যায় এই রোভারটি কবে যাচ্ছে মঙ্গলে। ২০২০ সালের আগস্ট মাসে যখন মঙ্গল পৃথিবীর কাছাকাছি আসবে এবং দুই গ্রহের যাতায়াতে সবচেয়ে কম শক্তি ব্যয় করা যাবে তখনই পৃথিবী ছাড়বে মার্স ২০২০।

রোভারটি এবার আরো বেশি দায়িত্ব নিয়ে নামবে লাল গ্রহে। শুধু ঘুরে ঘুরে দেখা না, মার্স ২০২০ মঙ্গলে মানুষের জন্য বসবাসের উপযোগী আবাসস্থল খুঁজে বেড়াবে, মাইক্রোঅর্গানিজমের চিহ্ন আছে কিনা তা খুঁজে খুঁজে বের করবে। রোভারটি অনেক স্যাম্পলও জড়ো করবে যেগুলো পৃথিবীতে পাঠানো হবে পরবর্তীতে কোন মিশনের মাধ্যমে।

২০২০ সালে পৃথিবী ছেড়ে গিয়ে মার্স ২০২০ মঙ্গলে নামবে ২০২১ সালে। এর মিশনের ব্যাপ্তিকাল মঙ্গলের ১ বছর (পৃথিবীর হিসেবে ৬৮৭ দিন)। রোভারটির দৈর্ঘ্য ১০ ফুট (হাত ছাড়া), প্রস্থ ৯ ফুট ও উচ্চতা ৭ ফুট। আর এর ওজন ১০৫০ কেজি।

আগের রোভার থেকে নেয়া ডিজাইন

মার্স ২০২০ ডিজাইনের দিক থেকে অনেককিছুই ধার করেছে আগের কিউরিওসিটি রোভার থেকে। এর মাধ্যমে সময় ও অর্থ বাঁচানো গিয়েছে। পাশাপাশি নাসার মার্স এক্সপ্লোরেশন প্রোগ্রামের ডিরেক্টর জিম ওয়াটজিন বলেছেন আগের ডিজাইন ব্যবহার করায় রিস্কও কমে গেছে।

কিউরিওসিটির মতো এতে ৬ টা চাকা, একটা বাহু ও হাত, ক্যামেরা ও ড্রিল করার যন্ত্র থাকছে। তবে মার্স ২০২০ তে বাড়তি হিসেবে যোগ হয়েছে অত্যাধুনিক এক্স-রে স্পেকট্রোমিটার ও আল্ট্রা ভায়োলেট লেজার। মাটিতে প্রবেশ করবে এমন এক রাডার দিয়ে মার্স ২০২০ সর্বোচ্চ ৩০ ফুট গভীর পর্যন্ত পাথর, পানি ও বরফের লেয়ার ম্যাপ তৈরি করতে পারবে।

আরো উন্নত ক্যামেরা

মোট ২৩ টি ক্যামেরা থাকবে নতুন এই রোভারটিতে। এর আগে কিউরিওসিটি, অপরচুনিটি ও স্পিরিট রোভার ১ মেগাপিক্সেলের সাদাকালো ছবি তুলেছে। আর মার্স ২০২০ তুলবে ২০ মেগাপিক্সেলের হাই রেজ্যুলেশন রঙ্গিন ছবি। আগের চেয়ে ওয়াইড ফিল্ড অব ভিউ থাকবে এসব ক্যামেরায় যার ফলে কয়েকটি ছবি তুলে জোড়া দেয়ার দরকার পড়বে না। এছাড়া এসব ক্যামেরার স্ট্যাবিলাইজেশন ব্যবস্থাও উন্নত করা হয়েছে যার ফলে মার্স ২০২০ মোশন ব্লারের মাধ্যমে ছবি নষ্ট করবেনা।

মার্স ২০২০ যন্ত্রপাতি
মার্স ২০২০ যন্ত্রপাতি। Courtesy NASA/JPL-Caltech

তবে এখানে সমস্যা মঙ্গল থেকে এসব ছবি পৃথিবীতে পাঠানো। কারণ বড় রেজ্যুলেশনের ছবি তোলার জন্য বেশি ডাটা বিম করতে হয়, কিন্তু টেলিকমিউনিকেশন লিংক উন্নত না হলে বেশি ডাটা রিসিভ করতে সমস্যা হয়। এজন্য রোভারের সাথে থাকা অনবোর্ড কম্পিউটারকে ডাটা কম্প্রেস করে তারপর বিম করতে হয়। মার্স ২০২০ও এ পদ্ধতি অবলম্বন করবে।

সোর্সঃ  নাসা



আপনার মন্তব্য

মন্তব্য করার পূর্বে মনে রাখুন এডিটোরিয়াল টিম সাইটে কমেন্ট মডারেশন করছে। কোন ধরনের মন্তব্য করা যাবেনা তা জানতে মন্তব্যের নীতিমালা দেখুন। আপনার ইমেইল অ্যাড্রেস প্রকাশ করা হবেনা।